বেতর নামাজ এক রাকাত পড়া যায়? বেতর পড়ার নিয়ম কী?
Salah-Prayer · Hanafi · Questioner: Md. Ashrafuzzaman Bhuiyan · 15 May 2026 · 4 views
Question
Answer
উত্তর: বেতর নামাজের রাকাত সংখ্যা ও পদ্ধতি
প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার আগে হানাফি মাজহাবের মূলনীতি স্পষ্ট করা জরুরি।
এক রাকাত বেতর নামাজ পড়া:
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, বেতর নামাজ তিন রাকাত এবং এটি ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা তিন রাকাত বেতর পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনগণও এই আমল করেছেন।
-
হাদিস:
- আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন:
"রাসূলুল্লাহ (সা.) রাতে এগারো রাকাত নামাজ পড়তেন। এর মধ্যে এক রাকাত বেতর পড়তেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৭)
(ব্যাখ্যা: এখানে এক রাকাত বেতর বলতে তিন রাকাতের শেষ রাকাত বোঝানো হয়েছে। কারণ তিনি তিন রাকাত বেতর পড়তেন এবং শেষ রাকাতে সালাম ফিরাতেন।)
- আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন:
-
হানাফি গ্রন্থের বক্তব্য:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: "বেতর নামাজ তিন রাকাত, এবং এটি ওয়াজিব। এক রাকাত বা দুই রাকাত পড়া জায়েজ নয়।" (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১১২)
- ইবনে আবিদিন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’-এ লেখেন: "যদি কেউ এক রাকাত বেতর পড়ে, তবে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না। কারণ বেতর তিন রাকাতের মাধ্যমেই আদায় করতে হবে।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৪৭)
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ শফি) তে বলা হয়েছে: "বেতর নামাজের নিয়ম হলো তিন রাকাত এক সালামে পড়া। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এক রাকাত পড়ে, তবে তার ওয়াজিব আদায় হবে না।" (ফাতাওয়া উসমানী, ৫/২৩৪)
উপসংহার:
এক রাকাত বেতর পড়া হানাফি মাজহাবে জায়েজ নয়। শুধুমাত্র তিন রাকাত বেতরই ওয়াজিব আদায়ের জন্য যথেষ্ট।
বেতর নামাজ পড়ার নিয়ম:
প্রস্তুতি:
- ইশার ফরজ নামাজের পর বেতর পড়তে হবে।
- বেতর নামাজের নিয়ত:
"নিয়ত করলাম তিন রাকাত ওয়াজিব নামাজ বেতরের, কিবলামুখী হয়ে, আল্লাহর জন্য।"
পদ্ধতি:
-
প্রথম রাকাত:
- তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলে সানা (سبحانك اللهم) পড়ুন।
- সূরা ফাতিহা ও এর সাথে একটি সূরা (যেমন: সূরা আলা বা সূরা কাফিরুন) মিলিয়ে পড়ুন।
- রুকু ও সিজদা করে দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ান।
-
দ্বিতীয় রাকাত:
- সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা (যেমন: সূরা ইখলাস) পড়ুন।
- রুকু ও সিজদা শেষে বসে তাশাহুদ (التحيات) পড়ুন।
-
তৃতীয় রাকাত:
- দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও একটি সূরা (যেমন: সূরা নাস) পড়ুন।
- সূরা শেষ হওয়ার পর তাকবির (الله أكبر) বলে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে পুনরায় বেঁধে নিন। এটাই কুনুতের তাকবির।
- দোয়া কুনুত পড়ুন:
"اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ كُلَّهُ نَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ"
- এরপর রুকু, সিজদা ও শেষে সালাম ফিরান।
বিশেষ নোট:
- কুনুত না জানলে সূরা ফাতিহা পড়ে সরাসরি রুকুতে চলে যাওয়া জায়েজ। তবে দোয়া কুনুত শেখা উত্তম।
- ইমামের পিছনে বেতর পড়লে ইমাম উচ্চস্বরে কিরাত পড়বেন এবং মুক্তাদি চুপ থাকবেন। কুনুতের সময় ইমামের সাথে আমিন বলবেন।
হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া: (১/৮৬)
- "বেতর নামাজ তিন রাকাত, এবং তা ওয়াজিব।"
- ফাতাওয়া আলমগীরী: (১/১১২)
- "এক রাকাত বেতর পড়লে আদায় হবে না।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া: (১/২৮৮)
- "বেতর নামাজের নিয়ম হল তিন রাকাত এক সালামে পড়া।"
- মা‘আরিফুল কুরআন: (মুফতি মুহাম্মদ শফি)
- "বেতর নামাজ ইশার পর তিন রাকাত পড়া সুন্নাতে মুআক্কাদা।"
- রদ্দুল মুহতার: (২/৪৪৭)
- "যদি কেউ এক রাকাত বেতর পড়ে, তবে তার ওয়াজিব আদায় হবে না।"